২৪ ঘণ্টায় সরকারি বাহিনীর হামলায় ১,৫৪০ হুথি হতাহত 

ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে হুথিদের ১ হাজার ৫৪০ জনকে হত্যা করার দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সেনাবাহিনী। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, এসব অভিযানে সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে তাইজ প্রদেশে। সেখানে হুথিদের অগ্রযাত্রাও থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযানে সরকারি বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।

নতুন করে সংঘাত শুরুর পর তাইজ শহর ইয়েমেনের অন্যতম প্রধান সংঘাতকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তাইজের সঙ্গে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগও রয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আল-হুবান সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনের সরকার। শনিবার (৩ অক্টোবর) সেনাবাহিনীর গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা আম্মার আল-সামিই জানান, হুথিরা ওই সড়ক ব্যবহার করে তাইজ শহরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, আশপাশের এলাকায় হামলা এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পথটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আল-হুবান ও তাইজ শহরের মধ্যে সংযোগকারী এই পথটি ইয়েমেনে দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে যুক্ত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রায় নয় বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালে মানবিক কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য এটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আল-সামিই।

তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আবারও পথটি বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং ওই এলাকার আশপাশে হামলার পাশাপাশি সামরিক সমাবেশ বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের ২০২২ সালে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর দেশটিতে লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুথিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকা দখলের পাশাপাশি মোখা বন্দর ও বাব আল-মানদাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হুথিবিরোধী বাহিনী মূল যুদ্ধরেখা অনেকটা স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে।

লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়। সূত্র: আলজাজিরা