ইরানে আবার যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চল জ্বলবে: আবদোল্লাহি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এর আগুন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, এই মার্কিন উপস্থিতিই অঞ্চলটির নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সমস্যার প্রধান কারণ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে এর প্রভাব কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেন, নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা হলে এর আগুন সবার ওপর ছড়িয়ে পড়বে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধগুলো শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষ্য, ইরানের জনগণের সমর্থন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেয়ির সমর্থন, সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্রমের কারণে এসব যুদ্ধ কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।

আবদোল্লাহি বলেন, ইরানকে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, এমন ধারণা এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, এমন দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও যুদ্ধ উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি এসব দাবিকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন।

ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, ইসরায়েল এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ এবং পরে ৪০ দিনের যুদ্ধ শুরু করেছিল। তার ভাষ্য, ইরানকে দুর্বল মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে ইসরায়েল সংঘাতে জড়ালেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলার মুখে যুদ্ধ বন্ধের পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে আবদোল্লাহি বলেন, নির্বাচন কখন হচ্ছে বা নির্বাচনের ফল কী হবে, ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির ওপর তার কোনো প্রভাব নেই। যুক্তরাষ্ট্র নিজে থেকে কিংবা ইসরায়েলের প্ররোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আঞ্চলিক দেশগুলোকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের বুঝতে হবে যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিই আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রধান কারণ। এই উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে নিরাপত্তাহীনতাও অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও সতর্কবার্তা দেন আবদোল্লাহি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে আবদোল্লাহি বলেন, ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের ও যেকোনো মাত্রার হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি