হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের দ্বীপগুলো রক্ষায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি। তিনি বলেছেন, কৌশলগত এই জলপথ ইসলামের যোদ্ধাদের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও যুদ্ধপ্রস্তুতি প্রতিদিন আরও জোরদার হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথ এবং পারস্য উপসাগরের ইরানি দ্বীপগুলোর স্থল প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা আইআরজিসির স্থলবাহিনীর মদিনাতুল মুনাওয়ারা সদর দপ্তরের সেনাদের পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন ইজাদি।
তিনি বলেন, আইআরজিসির স্থল, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর যোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে হরমুজ প্রণালির উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের দ্বীপগুলোতে। দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমান্ডারদের নেতৃত্বে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এসব সেনা কৌশলগত অঞ্চলটি রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইজাদি বলেন, ইস্পাতকঠিন মনোবল, শক্তিশালী পরিচালন পরিকল্পনা এবং উন্নত কৌশল ও পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ইরানি জাতির সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসির উপপ্রধান বলেন, দেশটির স্থল, নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এই জলপথের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, এসব এলাকা পরিদর্শনে স্পষ্ট হয়েছে, পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের সময় যেসব যোদ্ধা বিশ্বশক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে ইরানি জাতির বিজয় নিশ্চিত করেছিলেন, তাঁদের উত্তরসূরিরা আজও সেই পথ অনুসরণ করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ কুদস বাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, আইআরজিসি কমান্ডার হোসেইন খাররাজি দেহকোরদি এবং কর্মকর্তা মেহদি বাকেরি।
ইজাদির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি ও কার্যক্রম তাঁদের প্রতিরোধের সক্ষমতা এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন। জনগণ ও বাসিজ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা এবং সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধ প্রকৌশল, সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিট এবং কৌশলগতভাবে সরঞ্জাম ও অস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রস্তুতি এই অঞ্চলে অবস্থানরত বাহিনীগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির দ্বীপ এবং জলসীমাজুড়ে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় ইরানের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষার পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: প্রেস টিভি