হরমুজের বাইরেও নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজ ধাওয়া করবে আইআরজিসি

কৌশলগত হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অননুমোদিত পথে চলার অভিযোগে বিশাল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী (এলপিজি) একটি জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বাহিনীটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, অননুমোদিত পথে চলা জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আর শুধু হরমুজ প্রণালির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অঞ্চলজুড়েই সেগুলোকে ধাওয়া করা হবে এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

আইআরজিসি জানায়, শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দিনের শুরুর দিকে ‘এনভি সানশাইন’ নামের জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। ন্যাটউইটের মালিকানাধীন জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে একটি অবৈধ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষ ও চালনা ব্যবস্থায় ব্যাপক আগুন ধরে যায় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, এখন থেকে অননুমোদিত পথে চলাচলকারী কোনো জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ভৌগোলিক সীমারেখা বাধা হবে না। এ ধরনের জাহাজকে পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুসরণ করা হবে এবং তাদের শাস্তি দেওয়া হবে। তবে জাহাজটিতে হামলার ফলে হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

হরমুজে নিয়ন্ত্রণের দাবি আইআরজিসির

আইআরজিসি আবারও দাবি করেছে, ইসলামি বিপ্লবের নেতার নির্দেশনা এবং কৌশলগত জলপথটির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নৌবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ‘আগ্রাসী সেনাবাহিনীর’ উপস্থিতি বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে এ ধরনের ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী করেছে আইআরজিসি। তাদের অভিযোগ, আঞ্চলিক সামুদ্রিক পরিবহনে উত্তেজনা বাড়াতে ওয়াশিংটন জাহাজ চলাচল ও বিমা কোম্পানিগুলোকে বিভ্রান্ত করছে এবং এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য বিপুল অঙ্কের ঘুষ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি বাহিনী।

আইআরজিসি আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত প্রতারণার শিকার হওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী কোম্পানির মালিকানাধীন জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হরমুজে জাহাজ চলাচল তলানিতে

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে তেহরান। চলমান যুদ্ধ ও জলপথটিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে বাণিজ্যিক নৌযানের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ। দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সর্বনিম্ন সংখ্যা।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো পূরণ করে আস্থা পুনরুদ্ধারে পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে অননুমোদিত পথে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে পুরো অঞ্চলজুড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আইআরজিসির হুঁশিয়ারি সামুদ্রিক পরিবহনে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: প্রেস টিভি