ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নতুন যুদ্ধের সিদ্ধান্ত, দাবি ইরানি সংবাদপত্রের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদপত্র খোরাসান। পত্রিকাটির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও পশ্চিমা পক্ষগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হলেও সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আগে তা থেকে কার্যকর কোনো ফল আসার সম্ভাবনা কম।

রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে খোরাসান লিখেছে, গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ও বিশ্লেষণ পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে পরবর্তী যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, ‘গত এক সপ্তাহের ঘটনাবলি ও বিশ্লেষণ যাঁরা অনুসরণ করেছেন, তাঁরা সহজেই বুঝতে পারবেন যে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে পরবর্তী যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে সংবাদপত্রটির এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটিকে নিশ্চিত সামরিক সিদ্ধান্তের খবর হিসেবে নয়, বরং ইরানের একটি সংবাদপত্রের দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে খোরাসান বলেছে, নতুন সংঘাতের আগে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান থেকে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশার যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

পত্রিকাটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বিভাজনেরও সমালোচনা করেছে। তাদের ভাষ্য, কয়েক দশক ধরে সংস্কারপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ও সম্পৃক্ততাকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে।

খোরাসানের এই মন্তব্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে সংশয়ও ফুটে উঠেছে।

তবে নতুন যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে পত্রিকাটির দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো সূত্রে সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সংবাদটি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।