নার্সদের দাবি পূরণে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি

ইরানের নার্সিং খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি পূরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নার্সদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া এবং তাঁদের পেশাগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় নার্স দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেন মোজতবা খামেনি। হজরত জয়নাবের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানে দিবসটি পালন করা হয়। বার্তায় সর্বোচ্চ নেতা দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে নার্সিং পেশার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নার্সদের চাহিদা ও প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইরানি জাতির পুনর্জাগরণের এই ব্যতিক্রমী সময়ে দেশটির নারী ও মেয়েদের ভূমিকার প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান সত্যিই উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে নার্সদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁরা মানুষের মধ্যে নতুন প্রাণশক্তি ও আশার সঞ্চার করেন। সমাজের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা বলেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং উদ্ধারকর্মীদের মতো নার্সদের ভূমিকাও মানুষের মধ্যে প্রাণশক্তি ও আশাবাদ ফিরিয়ে আনে। তবে রোগীর চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসকদের ভূমিকার পাশাপাশি নার্সদের দায়িত্বের একটি বিশেষ দিক রয়েছে। চিকিৎসকদের মতোই গুরুত্বপূর্ণ হলেও নার্সদের কাজের ক্ষেত্রে রোগীর প্রতি দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড়, নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

মোজতবা খামেনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর অশুভ নেটওয়ার্ক স্বাধীনচেতা ও প্রতিরোধী জাতিগুলোর ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতন চালাতে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখছে না। বিশেষ করে ইরানি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে দেশটির মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নার্সদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং নার্সিং পেশাকে আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন সর্বোচ্চ নেতা।

তিনি আরও বলেন, নার্সদের জ্ঞান, দক্ষতা, সামর্থ্য, প্রাণশক্তি, কাজের অনুপ্রেরণা ও মর্যাদা সংরক্ষণ এবং এগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে সরকারি বা বেসরকারি নয়, এমন জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী নার্সদের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, নার্সদের পেশাগত সক্ষমতা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানো গেলে সমাজের মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ কারণে স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, দেশের নার্সিং সম্প্রদায়ের লক্ষ্য ও দাবি যথাসম্ভব ভালোভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বার্তার শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের ও ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন সর্বোচ্চ নেতা। ওই দুই যুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়া নার্সদের নাম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মোজতবা খামেনি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি