ইরানের প্রতি বৈরী মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে আরও দূরবর্তী অবস্থানে সরে যেতে বাধ্য করতে নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তার দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় যেমন বেড়েছে, তেমনি যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থার চেয়েও এখন তা অনেক বেশি শক্তিশালী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে আকরামিনিয়া বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার করা বিভিন্ন দাবির বিপরীতে ইরানের বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।
ইরানের এই সেনা মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির আকাশসীমায় একাধিক মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক তৎপরতার কারণে মার্কিন সামরিক জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরের উপকূল থেকে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আকরামিনিয়া বলেন, নতুন পরিকল্পনাগুলোর উদ্দেশ্য হলো, ইরানের প্রতি বৈরী মার্কিন জাহাজগুলোকে আরও বেশি দূরত্বে সরে যেতে বাধ্য করা। এ লক্ষ্যে উন্নত সমন্বিত সামরিক অভিযান এবং অভিনব কৌশলভিত্তিক কার্যক্রমের মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
সেনাবাহিনীর আদর্শিক-রাজনৈতিক সংস্থার উপসমন্বয়কের দায়িত্বেও থাকা আকরামিনিয়া আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় ইরানের পুরো দেশজুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষার আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এই উন্নয়নের ফলে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে বর্তমানে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে দায়ী করেন ইরানের এই জেনারেল। তার ভাষায়, ‘হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে আজ যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির সরাসরি পরিণতি।’
আকরামিনিয়া বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত উপলব্ধি করা যে যুক্তরাষ্ট্রই এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। তার বক্তব্যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করা, নতুন সামরিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল