ইয়েমেনে সৌদি হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৯, আহত ১১

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে একটি বাড়িতে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাহার জেলার আল-তুওয়াইলা এলাকায় হামলাটি চালানো হয়। হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে; তা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সাবা।

স্থানীয় একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল আল-তুওয়াইলা এলাকার একটি বাড়ি। হামলায় নারী ও শিশুরাও হতাহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা বাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান রাজধানী সানা এবং আরও পাঁচটি প্রদেশে ৫৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

সারির ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও তাইফ বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালিত যুদ্ধবিমানগুলো সানা ছাড়াও তাইজ, ইব, লাহিজ, সা’দা ও আমরান প্রদেশের বেসামরিক এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলায় মোট কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি।

সৌদি স্থাপনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান

সৌদি হামলার জবাবে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীও পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সারি। পৃথক এক বিবৃতিতে তিনি সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মরত বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব স্থাপনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদেরও ইয়েমেনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে উল্লেখ করা স্থানগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

সারি আরও দাবি করেন, রোববার ইয়েমেনের বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সৌদি রাজধানী রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে সৌদি আরব সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণ করার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এর জবাবে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি গ্রহণ করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

এরপর ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে ইয়েমেনের বাহিনী। সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু এলাকাও পুনরুদ্ধার করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ইয়েমেনের একাধিক রণাঙ্গনে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে তাইজ শহর ও এর আশপাশে ইয়েমেনের বাহিনী এবং সৌদি-সমর্থিত যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই চলছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে এবং দেশটির ওপর অবরোধ আরোপ করে। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সামরিক, রাজনৈতিক ও রসদ সহায়তা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত লাখ লাখ ইয়েমেনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি