ইরানের সেনাবাহিনীর চারটি শাখাই পুরোপুরি প্রস্তুত: সেনাপ্রধান

সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনীর চারটি শাখাই পুরোপুরি প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ইরানের সেনাবাহিনীর একটি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধকৌশল বিবেচনায় রেখেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

হাতামি বলেন, আগের সংঘাতগুলোতে ইরান এমন কিছু সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে, যা প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত করে দেয় এবং তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অসম যুদ্ধের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের সেনাপ্রধানের ভাষ্য, প্রতিপক্ষের সামরিক শক্তি সম্পর্কে তেহরানের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় নিয়ে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা হয়েছে। তার দাবি, আগের তুলনায় এখন অসম যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইরান সামরিক সরঞ্জামের গুণগত মান ও সংখ্যার দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিপক্ষ যেসব কৌশলে অভিযান চালাতে পারে, সেগুলো বিবেচনায় রেখেই পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান হাতামি। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইরানের সামরিক প্রস্তুতি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে প্রতিপক্ষের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য সামনে এল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। এপ্রিলের শুরুতে সংঘাতটি সাময়িকভাবে থামে। তবে অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সক্ষমতা নিয়ে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের স্বাধীন মূল্যায়ন এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রেস টিভি