শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতির পরই কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইউক্রেনের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্মতি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর আগে স্থানীয় জরুরি পরিষেবার পক্ষ থেকে একজন নিহত ও অন্তত ২২ জন আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।

ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা আবারও শুরুর বিষয়ে বুধবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে কথা বলেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় তিন ঘণ্টার ওই বৈঠকে আগামী ১০ নভেম্বরের পর আলোচনায় বসার বিষয়ে সম্মতি জানান পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী দফার বৈঠক সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু আলোচনার এই উদ্যোগের মধ্যেই কিয়েভে ব্যাপক হামলার ঘটনা নতুন করে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া। তার দাবি, রাজধানীতে তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মধ্য কিয়েভেও গুচ্ছবোমা বহনকারী ওয়ারহেড আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।

জেলেনস্কি বলেন, আলোচনার বিপরীতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকার অর্থ, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মস্কোর অবস্থানে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন আসেনি। হত্যাকাণ্ড বন্ধে রাশিয়াকে অন্য পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে দেশটির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের দাবি জানান ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, কিয়েভে আঘাত হানা কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ইউক্রেনের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারও রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকে। নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়।

এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক বক্তব্য দিলেও যুদ্ধের অবসানে দুই পক্ষের অবস্থানের বড় ধরনের ব্যবধান এখনো রয়ে গেছে। মস্কো ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের পুরো ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া, দেশটির সামরিক বাহিনীর আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকারের মতো শর্ত দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, কিয়েভ নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিরোধিতা করছে এবং ভবিষ্যতে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বর্তমান সম্মুখসারিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে সংঘাত থামানোর প্রস্তাবে ইউক্রেন রাজি হতে পারে। তবে এর জন্য মিত্রদের কাছ থেকে কার্যকর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেছেন, শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তার প্রশাসন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পরও রাশিয়া তাদের মূল দাবিগুলো থেকে সরে এসেছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও কিয়েভে সর্বশেষ হামলা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সূত্র: সিএনএন