মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশ থেকে কূটনীতিক ও পরিবারের সদস্যদের সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অঞ্চলটির চারটি দেশ থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার একাধিক সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর জনবল সাময়িকভাবে কমানো হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব দেশে ‘সীমিত কার্যক্রম’ (রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস) ব্যবস্থার আওতায় সাময়িক জনবল পরিবর্তন করা হলেও দূতাবাসগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রকাশ্যে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি।

এর আগে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব থেকে জরুরি নয়—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সব সদস্যকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যাঁদের কয়েকটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাঁদের কেউ কেউ ইরান যুদ্ধের তীব্র পর্যায়ে নিরাপত্তার কারণে কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পর সম্প্রতি আবার নিজ নিজ পদে ফিরেছিলেন।

নতুন করে জনবল সরানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ পদক্ষেপের বিস্তারিত নিরাপত্তাগত কারণ সম্পর্কে মার্কিন কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে সব তথ্য জানায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

তবে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সরাসরি আসন্ন হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে দেখার মতো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা এখনো অনিশ্চিত।