যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পরিণতি ইরানের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ইরানের জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ নিজেরাই সচেতন ও দায়িত্বশীলভাবে নির্ধারণ করতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা জরুরি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির (এমএনএ) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেস টিভিকে দেওয়া বক্তব্যে মোহেব্বি চলমান সংঘাতকে ‘প্রলয়ংকরী যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধে ইরান ‘পূর্ণ বিজয়’ অর্জন করবে এবং বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।
আইআরজিসির মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় পরিচয়, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং ইরানি-ইসলামি সভ্যতার প্রশ্নও জড়িত।
মোহেব্বি বলেন, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয় সংরক্ষণ করা বর্তমানে ইরানি জনগণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেশটিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাঁর দাবি, ইরানের নিজস্ব মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জায়গায় নিজেদের মূল্যবোধ ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।
মোহেব্বি বলেন, জনগণের দৃঢ় অবস্থান ও প্রতিরোধের মাধ্যমে ইরান বর্তমান সংকট কাটিয়ে মর্যাদা ও শক্তির ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।
দেশটির সর্বাত্মক প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, সংস্কৃতি, জাতীয় ও ধর্মীয় পরিচয় এবং সভ্যতা—সবকিছুই রক্ষা করতে হবে।
আইআরজিসির মুখপাত্রের বক্তব্যে চলমান সংঘাতকে সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের বাইরের দেশগুলোর ওপর কীভাবে পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিকল্পনার বিস্তারিত জানাননি।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ), প্রেস টিভি