ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফরে যাচ্ছেন। সেখানে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সফরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসি জানিয়েছেন, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মস্কোর উদ্দেশে রওনা হবেন পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সম্মেলনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবেন তাঁরা। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও দুই নেতার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর, বিশেষ করে গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা এবং সম্মেলনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ।
বাঘাই বলেন, জ্বালানি খাতে ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সফরে ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন। বৈঠক চলাকালে ও সফর শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, ইরানের ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বোভার্ড জানিয়েছেন, মস্কোর সম্মেলনে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি অভিন্ন গ্যাস বাজার গঠনের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবে তেহরান। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন নাশকতা থেকে জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয়টিও সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
বোভার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে যৌথভাবে জ্বালানি ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং গ্যাস বিনিময় চুক্তি সম্প্রসারণকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান। সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করবে তেহরান।
২০০১ সালে তেহরানে গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তসরকার সংস্থাটিতে ইরান, রাশিয়া ও কাতারসহ ১২টি প্রধান গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ রয়েছে। গ্যাস খাতের নীতি সমন্বয়, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে রপ্তানিকারক দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় ফোরামটি কাজ করে। সূত্র: প্রেস টিভি