ইসরায়েলের নির্বাচনে জয়ী হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে-এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে। ইরানের কথিত হুমকি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়ে নির্বাচনের আগে ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
আলজাজিরার বরাতে ৮এএম মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার, (২৭ অক্টোবর) নেতানিয়াহু এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁদের শুরু করা কাজ শেষ করতে হবে। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে ভোট দিতে হবে, কারণ তাঁদের শুরু করা কাজ শেষ করা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করতে ট্রাম্প এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত, যা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের ক্ষমতায় তাঁর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ইরানের হুমকি বন্ধ করতে তিনি আগেই দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীকে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, এই হুমকির অবসান ঘটানোর একমাত্র উপায় হলো বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন। তবে এ বক্তব্যের বিষয়ে ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, সোমবার ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ভালো কাজ করেছেন। নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ভোটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সম্ভাবনা নির্বাচনী আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী হলেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হবে, এমন কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি। তাঁর বক্তব্যকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফলাফল এবং ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।