পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, মার্কিন কর্মকাণ্ডের কারণে জ্বালানির দাম নির্ধারণ, সরবরাহ ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মস্কোয় গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা শুধু দেশটির জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপর সামরিক হামলার প্রভাব সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকে না। তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজার পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকায় কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংঘাত তৈরি হলে তার প্রভাব অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পেজেশকিয়ান একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলোকে এসব নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
তাঁর মতে, জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বজায় রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি। সামরিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
পারস্য উপসাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন অঞ্চল। এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে তেল ও গ্যাসের আন্তর্জাতিক সরবরাহ, পরিবহন রুট এবং বাজারদরে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় অঞ্চলটির নিরাপত্তা বিশ্ববাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মার্কিন সামরিক তৎপরতার কারণে জ্বালানি বাজারে কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে সম্মেলনে পেজেশকিয়ান কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দিয়েছেন কি না, প্রকাশিত তথ্য থেকে তা জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্যে মূলত ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: ইরান ইরান ইন্টারন্যাশনাল