ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলের নেতাদের গ্রেপ্তার চান বেন-গাভির

ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর আরব রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির। কাতার ও তুরস্কের অর্থায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্ত করছে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত। তবে অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের নির্দেশনার পর শিন বেত তদন্ত শুরু করে। নির্বাচনের সময় ইসরায়েলের স্বার্থবিরোধী বিদেশি পক্ষগুলোর মাধ্যমে অনিয়মতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের কথা উল্লেখ করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রাথমিক তদন্তে অর্থায়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে অতীতে সংশ্লিষ্টতা ছিল এমন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সন্দেহও রয়েছে। এ ছাড়া রা’আম পার্টির জন্য নগদ অর্থভর্তি খাম ও ভোটের স্লিপ জব্দ হওয়ার খবরও তদন্তের আওতায় এসেছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাতে কাতার ও তুরস্ককে অর্থের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেন-গাভির বলেন, কাতারের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে আরব দলগুলোর নেতাদের পাশাপাশি মামলার অন্য সন্দেহভাজনদেরও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া উচিত শিন বেতের। এর মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর শাখা সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচও বিদেশি ইসলামপন্থী অর্থের মাধ্যমে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী অর্থায়নের মাধ্যমে ইসরায়েলকে উগ্র ইসলামপন্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ অভিযোগটিকে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, এর লক্ষ্য ছিল ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরিয়ে দেওয়া।

এদিকে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বৃহস্পতিবার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তদন্তে উঠে আসা সন্দেহ ও অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করতে হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মুখপাত্রের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নেসেটের ২৬তম অধিবেশনের শপথ গ্রহণের তারিখ প্রভাবিত করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

তবে অভিযোগের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু ও লিকুদ নির্বাচনের ফলাফল এবং বিশেষ করে আরব জনগোষ্ঠীর ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করছে। গোলান বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করার প্রকৃত কোনো সন্দেহ থাকলে অবশ্যই তদন্ত করতে হবে। তবে কাতারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ নেতানিয়াহুর কার্যালয়কে ঘিরেই উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির চেয়ারম্যান আভিগদর লিবারম্যানও আরব দলগুলোর নেতাদের শিন বেতের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিদেশি ইসলামপন্থী অর্থ ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সন্দেহ ইসরায়েলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

নির্বাচনের অভিযোগ সামনে আসার পর ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াকভ আশেরও ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলি সমাজের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইহুদি জনগোষ্ঠী ও তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে, অথচ শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর অর্থ দিয়ে ভোট কেনার সন্দেহ সামনে এসেছে।

তদন্তের ফলাফল এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট