ইরানি জাতির অভিধানে আত্মসমর্পণ বলে কিছু নেই: সাইয়ারি

ইরানের সামরিক বাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেছেন, ইরানি জাতির অভিধানে আত্মসমর্পণ বলে কোনো শব্দ নেই। তার দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো শত্রুরা নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শহীদ সাত্তারি অ্যারোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন সাইয়ারি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান প্রতিপক্ষকে জয়ী হতে দেয়নি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দেশটির জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে।

ইরানের প্রতি বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর শত্রুতার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে বৈরিতা চলে আসছে। তার ভাষ্য, ইরানের স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও বিপ্লবের আদর্শকে পরাজিত করাই ছিল দেশটির শত্রুদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সাইয়ারি বলেন, ১৯৮০-এর দশকে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি বিপ্লবকে পরাজিত করা। তার দাবি, ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেন এবং বৈশ্বিক আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর লক্ষ্য ছিল একই। এ ক্ষেত্রে সাদ্দামকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের প্রশংসা করে সাইয়ারি বলেন, শত্রুরা দেশটির যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষাসক্ষমতা সম্পর্কে ভুল হিসাব করেছিল। তার মতে, আগের যুদ্ধগুলোর মতো এবারও ইরানের ইসলামি ব্যবস্থা উৎখাত করাই ছিল প্রতিপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এবারের কৌশলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও পুরো জাতিকে একসঙ্গে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টাও সফল হয়নি বলে দাবি করেন এই সামরিক কর্মকর্তা।

সাইয়ারির ভাষ্য, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তিনটি যুদ্ধের মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, প্রতিবারই শত্রুরা তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েও ইরান লড়াই চালিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে সাইয়ারি বলেন, দেশটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার ঘটনাকে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এত বড় ক্ষতির পরও ইরানি জনগণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে আত্মসমর্পণ না করার মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেন এই সেনা কমান্ডার। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি