ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতায় বাস্তুচ্যুত লেবাননের ৩ লাখের বেশি নাগরিক: জাতিসংঘ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চলমান অবস্থান ও তৎপরতার কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদে ঘরে ফেরা এবং নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশটির মানবিক সংকট এখনো কাটেনি বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। তবে বুধবার পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয়ের (ওসিএইচএ) তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

দুজারিক জানান, চলতি সপ্তাহেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বাড়িঘর ধ্বংস, অগ্নিসংযোগ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের ঘোষিত ‘যুদ্ধাঞ্চল’-এর ভেতরে এবং এর বাইরের বিভিন্ন জনপদেও এসব ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধাঞ্চল হিসেবে ঘোষিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ঘরে ফেরা অনেক মানুষ দেখতে পেয়েছেন, তাঁদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, জীবিকা আবার শুরু করা কঠিন এবং জরুরি সেবাগুলো এখনো ব্যাহত। ফলে নিজ এলাকায় ফিরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না তাঁরা।

নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমও নিরাপত্তাহীনতা ও ফসলের কাছে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা মাত্র দুই দিন জলপাই সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাঁদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করে।

এদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষ, নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া পরিবার, শরণার্থী এবং সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে লেবানন হিউম্যানিটারিয়ান ফান্ড ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে।

দুজারিক বলেন, ‘নিরাপত্তা, জরুরি সেবায় প্রবেশাধিকার এবং জীবিকা নির্বাহের সুযোগ না থাকলে পরিবারগুলো তাদের জীবন পুনর্গঠন করতে পারবে না।’

তিনি বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা সুরক্ষা, বাধাহীন মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং সব পক্ষকে মানুষের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

লেবাননের বর্তমান সংকটের সূত্রপাত ২ মার্চ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা শুরু করে। ১৬ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও চালায় দেশটি। একপর্যায়ে এই অভিযানে ইসরায়েলের পাঁচটি সামরিক ডিভিশনের সেনা অংশ নেয়।

১৬ এপ্রিল ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। পরে একাধিকবার এর মেয়াদ বাড়ানো হলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকে।

সংঘাতের তীব্রতম সময়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। গত ২০ অক্টোবর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানান, লেবাননের ভেতরে ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি নিরাপত্তা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল। পশ্চিম উপকূল থেকে মাউন্ট হারমনের দক্ষিণ ঢাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েল ধরে রাখবে বলেও জানান তিনি।

সূত্র: আরব নিউজ, জাতিসংঘ