ইরানে হামলার পর বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভাবমূর্তি বিপর্যস্ত: আলিরেজা শেখ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন সামরিক শক্তির ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান (প্রশাসনিক ও নির্বাহী বিষয়ক) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনের সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তেহরানে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল শেখ বলেন, আধুনিক যুদ্ধ কেবল সামরিক ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ভূগোলসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র এতে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধের প্রভাব অনুভব করেন সমাজের প্রতিটি মানুষ। তবে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীই থাকে সম্মুখসারিতে। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষায় ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলে ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বজুড়ে শত শত সামরিক ঘাঁটি এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না, সে বিষয়ে বিশ্বজনমতে উপলব্ধি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ৪০ দিনের যুদ্ধের পরিণতি উল্লেখ করে জেনারেল শেখ বলেন, মার্কিন সামরিক পরাজয় শুধু হতাহতের সংখ্যা কিংবা অস্ত্র ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে বিচার করা যায় না। তাঁর মতে, কয়েক দশকের প্রচার এবং বিপুল সামরিক ব্যয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যে পরাশক্তির ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিল, সেই ভাবমূর্তির ক্ষতিই বড় পরাজয়।

তিনি আরও বলেন, পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সামরিক শক্তির মাধ্যমে অন্যদের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা দেখানোই ছিল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে প্রমাণ হয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেই রাজনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হয় না।

বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশের হিসাব-নিকাশেও এসব ঘটনার প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন ইরানের সেনাবাহিনীর এই উপপ্রধান। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দেশটির প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোকে এখন নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

জেনারেল শেখের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে আর নিঃশর্ত বা বিনা মূল্যের সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির যে প্রচলিত ভাবমূর্তি ছিল, তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)। প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৪৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি এবং মার্কিন সামরিক পরাজয়সংক্রান্ত বক্তব্য ইরানি সেনা কর্মকর্তার দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।