মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ বদলেছে কি না, দেখতে চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ওয়াশিংটনের ইরাননীতি বদলায় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। নির্বাচনের ফল যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনতে পেরেছে কি না, সেটি দেখতে চায় ইরানের নেতারা। কাতারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কৌশলগত বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আল-থাওয়াদি পত্রিকাটিকে বলেন, ‘ইরানের নেতারা অপেক্ষা করছেন, এই নির্বাচন সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা দেখার জন্য।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠিকে ইরান সম্মান প্রদর্শনের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভ্যান্স যুদ্ধকে ভুল বলে মন্তব্য করায় ইরানি নেতারা সেটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তবে এখন তারা চান, যুক্তরাষ্ট্র যেন কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখে।

আল-থাওয়াদি বলেন, ‘এমন একটি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ইরান, যে বিষয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের মধ্যেই আপাতদৃষ্টিতে ঐকমত্য রয়েছে।’

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর কলামিস্ট ডেভিড ইগনাশিয়াসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। আল-থাওয়াদি তেহরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় কাতারের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছেন।

গত ৪ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারায়। ইরান যুদ্ধ এবং এর কারণে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নির্বাচনের পর ভ্যান্স যুদ্ধের সমালোচনা করে বলেন, ইরান যুদ্ধই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এর আগে তিনি ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়িকে একটি সমঝোতামূলক চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

তবে নির্বাচনের ফলকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখছে না তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এর আগে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল পরিবর্তন হলেও ইরানের প্রতি দেশটির বৈরী আচরণ বদলে যাবে—এমন আশা করা ঠিক নয়।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য কমাতে কাতার কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে বলে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধ বন্ধের মতো শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে ইরান অনাগ্রহী বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তেহরানের কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ইরানের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবে মার্কিন নীতিতে প্রতিফলিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং চলমান মধ্যস্থতার আলোচনার ওপর।