হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ঘোষিত সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে। এসব শর্ত মেনে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়ার একমাত্র উপায় বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামনিয়া।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আকরামনিয়া সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও আগ্রাসন বা আঞ্চলিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে না। ওয়াশিংটনকে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানানো সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধপ্রস্তুতি নিয়ে কয়েকটি কৌশলগত নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান আকরামনিয়া।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, যেকোনো শত্রু আগ্রাসনের দ্রুত ও কার্যকর জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রতিপক্ষ ভবিষ্যতে নতুন কোনো হামলা বা দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার পরিণতি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, সেনা, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ রয়েছে। ইরানের ওপর নতুন আগ্রাসন হলে এসব মার্কিন সম্পদকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
আকরামনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক, কার্যকর ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, দেশটির জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে সাতটি শর্ত তুলে ধরেছেন, সেগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো পথ নেই।
তবে মেহর নিউজের এই প্রতিবেদনে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শর্তগুলোর সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নতুন করে আগ্রাসন বা উসকানি দিয়ে এই নৌপথ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানানো শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক তেল ও তেলজাত পণ্যের সমুদ্রপথে বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিরও গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি।
ফলে হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম, জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
ইরানের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও পুনরায় চালুর বিষয়টিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছে। তবে ওয়াশিংটন এসব শর্ত গ্রহণ করবে কি না, কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA), ৭ নভেম্বর ২০২৬।