১২ দিনের যুদ্ধে শত্রুপক্ষের ২৬০টি বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে গত এক থেকে দুই সপ্তাহে সাতটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) তেহরানের সারচেশমেহ কালচারাল কমপ্লেক্সে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস উইক উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি।
মোহেবি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়ন। ভবিষ্যতে আবার যুদ্ধ শুরু হলে বাহিনীর নতুন সক্ষমতা দেখে বিশ্ব বিস্মিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, গত এক থেকে দুই সপ্তাহে সাতটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন অক্ষত অবস্থায় ভূপাতিত করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি শত্রুপক্ষের তুলনায় ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ।
ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা নির্মাণের দাবি
সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তি ও ইরানের বিস্তৃত ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগিয়ে দেশটিতে বহু ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অ্যারোস্পেস ফোর্সের কৌশলগত অর্জনের অন্যতম ভিত্তি হলো নিজস্ব জ্ঞান ও প্রযুক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে কাজে লাগানো। এর ফলে সামরিক সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ থেকে ইরান অ্যারোস্পেস খাতে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে কোনো ভুল হিসাব করলে তাদের এমন আঘাতের মুখে পড়তে হবে, যার প্রভাব বহু বছর অনুভূত হবে।
তাঁর বক্তব্য, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের সক্ষমতা ও শক্তি সম্পর্কে শত্রুপক্ষের ধারণা আগামী দিনে বদলে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইসলামি বিপ্লব, ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ৪০ দিনের যুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি অ্যারোস্পেস ফোর্সের সদস্য, সাবেক সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের অবদানের কথাও তুলে ধরেন।
দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই হয়নি
আইআরজিসির মুখপাত্রের এসব বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ২৬০টি বিমান ভূপাতিত করা কিংবা সাতটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবির পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য, বিস্তারিত তালিকা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে এসব দাবিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।