এবার কিউবাকে হুঁশিয়ারি করে যা বললেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার পর এবার কিউবাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ট্রাম্প বলেছেন, তারা যেন সমঝোতায় আসে’, নইলে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে।’ তিনি ঘোষণা দেন, ‘ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল ও অর্থের প্রবাহ এখন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের নজর কিউবার দিকে ঘুরে যায়। কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় সরবরাহ করত বলে ধারণা করা হয়।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কিউবা কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই জ্বালানি আমদানির অধিকার রাখে। আমরা কী করব, তা কেউ নির্দেশ দেয় না।

ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজ জব্দ করার ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলের ফলে কিউবায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভেনেজুয়েলা থেকে আসা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল বহনকারী একটি পঞ্চম ট্যাংকার জব্দ করে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও অর্থে টিকে ছিল। বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসকের জন্য ‘নিরাপত্তা সেবা’ দিয়েছে—কিন্তু এখন আর তা হবে না!

তিনি আরও বলেন, কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না—শূন্য! আমি জোর দিয়ে বলছি, সময় থাকতে তারা যেন সমঝোতায় আসে।

তবে ট্রাম্প কী ধরনের সমঝোতার কথা বলছেন বা কিউবা তা না করলে কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে— সে বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি।

এদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবা যেকোনো আগ্রহী দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির ‘পরম অধিকার’ রাখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ বা হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না।

তিনি আরও বলেন, কিউবা কখনোই ব্ল্যাকমেইল বা সামরিক চাপের কাছে মাথা নত করে না।

রোববার কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল বলেন, যারা মানবজীবনকেও ব্যবসার পণ্য বানায়, তাদের কিউবাকে নিয়ে নৈতিক ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই— একেবারেই নেই।

তিনি আরও বলেন, আজ যারা হিস্টিরিক হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে, তারা এই জনগণের নিজেদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সার্বভৌম সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বলেই তা করছে।