ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলা ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়ার চার প্রভাবশালী মুসলিম দেশ। সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও ওমানের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম 'দ্য নিউজ' ও 'এএফপি'র তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে এই দেশগুলো ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে। বিশেষ করে সৌদি আরব এই হামলায় তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানায়। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বৃহস্পতিবার ইরান, ওমান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন।
একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুরো অঞ্চলকে একটি বড় সংঘাত থেকে বাঁচাতে কূটনীতিকরা ‘নির্ঘুম রাত’ পার করেছেন। ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে, ইরানে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান ৮০০ জন বন্দির পূর্বনির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “৮০০ মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হলেও ইরানের বিষয়ে সব সামরিক অপশন এখনো প্রেসিডেন্টের টেবিলে রয়েছে।”
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, আপাতত কোনো ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি এখনও থমথমে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে নিরাপত্তা সতর্কতা কিছুটা কমানো হয়েছে এবং যুদ্ধবিমানগুলো আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে।