পদত্যাগ করলেন ওয়াশিংটন পোস্টের সিইও

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রকাশক উইল লুইস অবিলম্বে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

গত বুধবার ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের এক-তৃতীয়াংশ সংবাদ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন এই ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় পাঠকদের ক্ষোভের মুখে পড়ার কয়েক দিনের মাথায় সরে দাঁড়ানোর এ খবর দিল পত্রিকাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রগুলো বর্তমানে ব্যবসায়িক মন্দার মধ্য দিয়ে গেলেও দুই বছরের মেয়াদে উইল লুইসের ব্যবস্থাপনা গ্রাহক ও সংবাদকর্মী-উভয় পক্ষেই ভীষণভাবে সমালোচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় তার নেয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে ছিল বিতর্ক।

ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিক লুইসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন জেফ ডি’ওনোফ্রিও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টাম্বলারের সাবেক সিইও এবং গত বছর চিফ ফিন্যান্সিয়াল কর্মকর্তা হিসেবে ওয়াশিংটন পোস্টে যোগ দেন। ডি’ওনোফ্রিওর এ নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
 
সহকর্মীদের পাঠানো এক মেইলে লুইস বলেন, ‘সরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই আমার উপযুক্ত সময়।’
  
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন মতে, গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদমাধ্যমটির মুখপাত্র এক ঘোষণায় জানান, ওয়াশিংটন পোস্ট ব্যাপক ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কলেবর ছোট হয়ে আসবে।
 
‘স্পোর্টস অ্যান্ড বুকস’ ডেস্কের একটি বড় অংশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, বিদেশি সংবাদ কাভারেজ কমিয়ে আনা হয়েছে এবং পত্রিকার দৈনিক ‘পোস্ট রিপোর্টস’ পডকাস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
 
নিউজরুমের ‘শত শত’ কর্মী চাকরি হারাবেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়ন। পোস্টের কর্মীরা ওই ইউনিয়নের সদস্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ছাটাইয়ের পদক্ষেপে নিউজরুমের তিন শতাধিক সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।