শীর্ষ সহযোগীদের পদত্যাগ, ক্ষমা চেয়েও তোপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্টতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রিটিশ রাজনীতি। বিতর্কিত নিয়োগ ও তথ্য গোপনের অভিযোগে নিজ দলের ভেতরেই তোপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শীর্ষ সহযোগীদের একের পর এক পদত্যাগ এবং স্কটিশ লেবার পার্টির পক্ষ থেকে পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চরম সংকটের মুখে।

ঘটনার মূলে রয়েছে ২০২৪ সালে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এই তথ্য জানা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন স্টারমার। কিন্তু তার এই ক্ষমা প্রার্থনা রাজনৈতিক ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছেন কিয়ার স্টারমারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। অভিযোগ রয়েছে, এপস্টেইন-ম্যান্ডেলসন সম্পর্কের কথা জানার পরও তিনি ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূতের পদের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। তার পদত্যাগের মাত্র একদিন পরই দায়িত্ব ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালান। প্রধান দুই সহযোগীর বিদায়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নেতৃত্ব সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি জানান, ডাউনিং স্ট্রিটের ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে লেবার পার্টি তৃতীয় অবস্থানে নেমে যাওয়ায় দলের অস্তিত্ব রক্ষায় স্টারমারের বিদায় অনিবার্য বলে মনে করছেন অনেক নেতা।

এত চাপের মুখেও পদ ছাড়তে নারাজ কিয়ার স্টারমার। সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ম্যান্ডেট ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য তাকে সমর্থন দিলেও বাইরের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

এদিকে, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন রাজা চার্লস। তার ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেস ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পুলিশি তদন্তে রাজপরিবার পূর্ণ সহায়তা করতে প্রস্তুত।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ঝড়ে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন খাদের কিনারায়। আগামী কয়েক সপ্তাহ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত নির্ণায়ক হতে যাচ্ছে।