শাবানা মাহমুদ কি হতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী?

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ইতিহাস গড়ে হতে পারেন প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী।

আমেরিকায় জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি ফাঁসের জেরে যুক্তরাজ্যেও সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। রীতিমতো এখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। স্টারমারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা সম্ভাব্য বিকল্প খুঁজছেন। আলোচনায় উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য শাবানা মাহমুদকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নেতৃত্বের লড়াই শুরু হলে তিনি হতে পারেন দলের পরবর্তী প্রধান। আর তা হলে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাবানা।

সংকটের সূত্রপাত ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ ঘিরে। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে মারা যাওয়া যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরোনো সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় লেবার পার্টির ভেতরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ নিয়োগের দায় নিয়ে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে সুরক্ষা দিতে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত হলেও সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সবার নজর এখন সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের দিকে। আর এ ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শাবানা মাহমুদ।

কিয়ার স্টারমারের ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

কে এই শাবানা মাহমুদ
৪৫ বছর বয়সী শাবানা মাহমুদের জন্ম বার্মিংহামে। অক্সফোর্ডের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম দিককার মুসলিম নারী সংসদ সদস্যদের একজন। লেবার পার্টিতে তিনি সুশৃঙ্খল ও বাগ্মী নেতা হিসেবে পরিচিত এবং দলের কট্টর ডানপন্থী অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেও অনেকে মনে করেন।

২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন শাবানা। স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ন্যূনতম সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি এবং স্থায়ী আবাসনকে ‘অধিকার নয়, বিশেষ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শাবানার মতে, জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে এ পদক্ষেপ জরুরি। 

যে কারণে শাবানা মাহমুদ আলোচনায়
কিয়ার স্টারমারের অবস্থান যত দুর্বল হচ্ছে, লেবার পার্টির এমপিরা ততই চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন– কে পারবেন দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে, জনমত জরিপে ধস ঠেকাতে এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে। মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ পদ, আইনি পটভূমি ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করায় শাবানা মাহমুদ এখন সেই তালিকায় সবার ওপরের দিকে আছেন।

দলের নিয়ম অনুযায়ী নেতৃত্ব পরিবর্তনে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের আলোচনায় শাবানা মাহমুদই কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আসেনি।

তথ্যসূত্র: গাল্ফ নিউজ ও বিবিসি