যুক্তরাজ্যে মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনে জন্মালো সুস্থ শিশু

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো একজন মৃত দাতার জরায়ু ব্যবহার করে সফলভাবে মা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন গ্রেস বেল নামের এক ব্রিটিশ নারী। লন্ডনের ‘কুইন শার্লট অ্যান্ড চেলসি হসপিটাল’-এ জন্ম নেওয়া এই শিশুটির নাম রাখা হয়েছে হিউগো পাওয়েল। ব্রিটিশ চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে এক অভাবনীয় ও যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পেশায় আইটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার গ্রেস বেল ‘মেয়ার রকিটানস্কি কুস্টার হাউসার সিন্ড্রোম’ নামক এক বিরল শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মেছিলেন। এর ফলে তার শরীরে জরায়ু গঠিত হয়নি। কৈশোরে চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না। তবে ২০২৪ সালে জরায়ু প্রতিস্থাপনের পর উন্নত প্রজনন চিকিৎসার মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে ৬ পাউন্ড ১৩ আউন্স ওজনের সুস্থ সন্তান হিউগোর জন্ম হয়। গ্রেসের পরিবার এই ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই সফল অস্ত্রোপচার ও প্রজনন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক রিচার্ড স্মিথ, যিনি ‘ওম্ব ট্রান্সপ্লান্ট ইউকে’ চ্যারিটির ক্লিনিক্যাল লিড। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্রেস ও তার সঙ্গী স্টিভ পাওয়েল সন্তানের মাঝের নাম রেখেছেন ‘রিচার্ড’। অধ্যাপক স্মিথ এই সাফল্যকে দীর্ঘ বছরের নিরলস পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গ্রেস বেল আবেগপ্লুত হয়ে জানান, একজন অজ্ঞাতপরিচয় মৃত দাতার মহানুভবতা ও তার পরিবারের নিঃস্বার্থ সিদ্ধান্তের কারণেই আজ তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। উল্লেখ্য, ওই একই দাতার অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আরও চারজন ব্যক্তির জীবন বেঁচেছে।

মৃত দাতার জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ঘটনা পুরো ইউরোপে এর আগে মাত্র দুবার ঘটেছে। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এমন ঘটনার মাধ্যমে মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। সাধারণত জরায়ু প্রতিস্থাপনের দুই-তৃতীয়াংশই জীবিত দাতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গ্রেস বেল যদি আর সন্তান নিতে না চান, তবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই জরায়ুটি তার দেহ থেকে সরিয়ে ফেলা হবে। এতে করে তাকে সারাজীবন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে রাখার ওষুধ (ইমিউনোসপ্রেসেন্ট) গ্রহণ করতে হবে না। 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান