ইরানে সাড়ে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলা

ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে  হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক ভিডিও বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাডমিরাল কুপার জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অংশ হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, ড্রোন তৈরির কারখানা এবং নৌবাহিনীর স্থাপনাগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ও নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন সেন্টকমের তথ্যমতে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের ৬০টিরও বেশি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের গর্ব ‘সোলাইমানি’ শ্রেণির চারটি যুদ্ধজাহাজের শেষটিও গত রাতে ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে ইরানের ওই শ্রেণির পুরো নৌবহর এখন পুরোপুরি যুদ্ধক্ষমতা হারিয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিনটিকে যুদ্ধের ‘সবচেয়ে তীব্র’ দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। অ্যাডমিরাল কুপার জানান, মঙ্গলবার প্রায় প্রতি ঘণ্টায় ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে বহুমুখী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। গত রাতে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানের একটি বিশাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানায় বড় ধরণের হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ‘ইরানে আঘাত হানার মতো প্রায় আর কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট নেই। তাদের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এ পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে মার্কিন কমান্ডের দাবি, ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখন তলানিতে।