মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ১৪তম দিনে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যে এতো দীর্ঘায়িত হবে, এমনটা শুরুতে ওয়াশিংটন অনুমান করেনি। যুদ্ধের ময়দানে ইরান ও তার মিত্রদের পাল্টা হামলা, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার বলেছেন, যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে এতো দীর্ঘ সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিল না। ব্রাসেলস থেকে আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এটি খুব কঠিন একটি সময়, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এমন দীর্ঘ যুদ্ধ এবং ইরান ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া আগে থেকে কল্পনা করেনি।’
তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে মাত্রায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাও যুক্তরাষ্ট্র আশা করেনি। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা এতো বড় মাত্রায় হবে— এটিও যুক্তরাষ্ট্র অনুমান করতে পারেনি।’
ম্যাগনিয়ার আরও বলেন, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ইসরায়েলের ওপর হামলা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ‘যে পক্ষ আগে দুর্বলতা দেখাবে, তাকেই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পরাজিত হিসেবে ঘোষণা করা হবে।’
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন পরিস্থিতি চান না, তবে তিনি দেশের ভেতরেও বাড়তি রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন।
অন্যদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফুয়াদ ইজাদি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ চালাচ্ছে তা আসলে একটি ‘পছন্দের যুদ্ধ’, যা কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি। এটি ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেয়া সিদ্ধান্ত।
ইজাদির মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে উদ্বেগ দেখানো হচ্ছে তা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক মাস আগে ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছিলেন যে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, একটি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ছিল। কিন্তু এটি মূলত সরকার পরিবর্তনের একটি অভিযান এবং এটা স্পষ্ট যে যাদের ক্ষমতাচ্যুত করতে চাওয়া হচ্ছিল, তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী ছিল না যুক্তরাষ্ট্র।
খবর: আল জাজিরা