ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন সমুদ্রপথে থাকা রুশ তেলের ওপর বিধিনিষেধ সাময়িক শিথিল করেছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, এই অনুমতি আপাতত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মার্কিন প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ যুদ্ধের মধ্যেও ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনা’ লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে। তবে সব রুশ তেল কিনতে পারবে না দেশগুলো; শুধুমাত্র সমুদ্রে বর্তমানে থাকা নৌযানে থাকা তেলের জন্য এই বিধিনিষেধ শিথিল হয়েছে। বেসেন্ট বলেন, এতে রাশিয়া সরকারের কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা হবে না।
ইরান ও তার উপসাগরের নৌপথে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের গ্লোবাল সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণা বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
উপসাগরের দেশগুলোর বড় ক্রেতা এশিয়ার দেশগুলো ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিপিন্সে সরকারি চাকরিজীবীদের সপ্তাহে চারদিন অফিস করতে বলা হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে পেট্রলের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, তেলের দামের সাময়িক বৃদ্ধি ক্ষণস্থায়ী এবং স্বল্প মাত্রার ব্যাঘাত মাত্র, যা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতি ও দেশকে উপকৃত করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য মার্কিন প্রশাসন ‘সামরিকভাবে যত দ্রুত সম্ভব’ পাহারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, যত দ্রুত নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: স্কাই নিউজ