ক্যালিফোর্নিয়ায় বন্ধ তেল পাইপলাইন চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় এক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য সরকারের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সেখানকার একটি বিতর্কিত ও দীর্ঘকাল বন্ধ থাকা অফশোর তেল পাইপলাইন পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ট্রাম্প ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট’ (DPA) প্রয়োগ করে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এরপরই জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেবল অফশোর কর্পোরেশনকে সান্তা বারবারা উপকূলের ‘সান্তা ইনেজ ইউনিট’ এবং এর পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন। মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বিদেশের ওপর তেলের নির্ভরতা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া, হঠকারী এবং অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বান্তা একে ‘ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন। নিউসাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একটি বেআইনি প্রচেষ্টা। এই পাইপলাইনের অপারেটররা বর্তমানে ফৌজদারি অপরাধের মুখোমুখি এবং আদালতের নির্দেশে এটি চালু করা নিষিদ্ধ।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে এক ভয়াবহ তেল বিপর্যয়ের পর থেকে এই পাইপলাইনটি বন্ধ রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল যাতে এই পাইপলাইন পুনরায় চালু না করা হয়।

মার্কিন জ্বালানি দপ্তর বলছে, এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার ব্যারেল তেল পাওয়া যাবে। তবে গভর্নর নিউসাম একে ‘সমুদ্রে শিশিরবিন্দু’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, আমেরিকার প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেলের চাহিদার তুলনায় এটি খুবই সামান্য এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।

এদিকে, গত রোববার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১২ ডলার এবং মার্কিন তেলের দাম ১০১.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।