মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিরাপদ রাখতে সহযোগিতা না করে, তাহলে জোটটির ভবিষ্যৎ ভালো হবে না বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো যদি এতে ভূমিকা না নেয়, তাহলে তা জোটের ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ হবে।
এদিকে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীনও এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসবে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি বেইজিং সহযোগিতায় রাজি না হয়, তাহলে সেই শীর্ষ বৈঠক পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে প্রায় সাতটি দেশের সঙ্গে তিনি আলোচনা করছেন। জলপথটিতে যৌথভাবে টহল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়েও কথা চলছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোন দেশ সহযোগিতা করছে আর কে করছে না, তা তিনি মনে রাখবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরান থেকে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তেহরান কোনো যুদ্ধবিরতি চায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনারও কোনো কারণ দেখছে না। তার ভাষায়, ‘আমরা যখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে এমন ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানে এখনো হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, পশ্চিম ও মধ্য ইরানে হামলা আরও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি