অত্যাধুনিক বাঙ্কার বাস্টার অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের পাহাড় ও ভূগর্ভে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনই ইঙ্গিত মিলছে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও কৌশলগত অবস্থান থেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থামেনি। বরং প্রতিবেশী অঞ্চলে এসব হামলা অব্যাহত থাকায় স্পষ্ট হচ্ছে—ভূগর্ভে মজুদ থাকা অস্ত্র এখনো কার্যকর।
ইরানের সামরিক কৌশলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনই মূল শক্তি। শক্তিশালী বিমান বা নৌবাহিনী না থাকায়, এই অস্ত্রগুলোকে রক্ষা করতে বছরের পর বছর ধরে পাহাড়ের ভেতর ও মাটির গভীরে গড়ে তোলা হয়েছে সুরক্ষিত ঘাঁটি।
এসব ঘাঁটিতে আঘাত হানতে ব্যবহার করা হচ্ছে শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার বোমা, যার মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৭২ অ্যাডভান্সড পেনিট্রেটর। এর লক্ষ্য—গভীর ভূগর্ভে থাকা অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করা।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা কার্যত ধ্বংস করা হয়েছে। তার ভাষায়, সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, কারখানা ও উৎপাদন লাইন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
তবে আগে থেকে মজুত থাকা ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে কৌশল বদলে এখন মোবাইল লঞ্চার ধ্বংসে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত টার্গেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ থেকে এসব লঞ্চার শনাক্ত করে হামলা চালানো হচ্ছে।
এই কৌশলের শিকড় রয়েছে ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে, যখন ইরাকের স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসে ‘স্কাড হান্টিং’ মিশন চালিয়েছিল মার্কিন বিমানবাহিনী। বর্তমান সংঘাতে সেই অভিজ্ঞতাই নতুনভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি