ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের শাসন পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) চেষ্টায় থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন নিজ দেশেই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নীতি ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে ‘নো কিংস’ (No Kings) র‍্যালিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। 

শনিবার (২৮ মার্চ) দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও বোস্টনের মতো প্রধান শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে ট্রাম্পের অপসারণ দাবি করেছেন।

শনিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসির লিঙ্কন মেমোরিয়ালের সিঁড়ি থেকে শুরু করে পুরো ন্যাশনাল মল এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কুশপুত্তলিকা বহন করে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে ম্যানহাটনের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, ট্রাম্প জনগণের ওপর ‘রাজা’র মতো রাজত্ব করতে চাইছেন। তারা বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা, কঠোর কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিনেসোটার সেন্ট পলে আয়োজিত বিশাল এক বিক্ষোভে কিংবদন্তি গায়ক ব্রুস স্প্রিংস্টিন উপস্থিত হয়ে তার অভিবাসন-বিরোধী আইন নিয়ে লেখা গান ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপলিস’ পরিবেশন করেন। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিক্ষোভ সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেসে রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়লে কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ধরপাকড় চালায়।

কেবল আমেরিকার ভেতরই নয়, প্যারিস, লন্ডন ও লিসবনের মতো বড় বড় শহরগুলোতেও প্রবাসী আমেরিকানরা এই ‘নো কিংস’ র‍্যালিতে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার বিরুদ্ধে এটি একটি বড় ধরণের গণবিস্ফোরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্প আগে থেকেই দাবি করে আসছেন তিনি কোনো রাজা নন, তবে রাজপথের স্লোগান বলছে ভিন্ন কথা। সূত্র: বিবিসি