যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ওই নারীর নাম নিলুফার ইয়াসমিন (৪২), তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার কুশাখালী ইউনিয়নের গোরারবাগ গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়াও নিহত ইয়াসমিনের ভাই কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ইয়াসমিনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে ফোর্ট মায়ার্সের একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সামনে ইয়াসমিনের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও লি কাউন্টি ইএমএস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে সকাল ৭টা ২৭ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ রোবার্ট জোয়াসিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাতুড়ি দিয়ে দোকানের সামনে পার্ক করা একটি কালো গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। পরে দোকান থেকে ইয়াসমিন বের হলে ওই ব্যক্তি তার ঘাড়ে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারী তার মাথায় একাধিক আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশের বরাত দিয়ে শাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ কে-৯ ইউনিট ও শেরিফের এভিয়েশন ইউনিট নিয়ে অভিযান চালায়। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের তিনটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। প্রথমদিকে সন্দেহভাজন পালিয়ে গেলেও পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বের একটি অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয় এবং সন্দেহভাজনকে দেখলে ৯১১ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানানো হয়। পরে বিকেলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিয়ে ফোর্ট মায়ার্সে থাকছিলেন নিলুফার। মাস ছয়েক আগে দোকানটিতে কাজে যোগ দেন।
দোকান মালিক আরিফ বলেন, ভোরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ফজরের নামাজ পড়ছিলেন নিলুফার। তখন হামলাকারী ডিঅ্যান্ডডি কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কে থাকা একটি জিপের গ্লাস হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা শুরু করেন। এরপর নিলুফার দরজা খুলে বাইরে এসে বলতে থাকেন- কী সমস্যা, এমন করছেন কেন? এ কথার পরই সেই ব্যক্তি নিলুফারের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। নিলুফার লুটিয়ে পড়লেও কয়েকবার তাকে আঘাত করা হয়। পরে পুলিশ এসে দেখে নিলুফার বেঁচে নেই।
আরিফ আরও বলেন, স্টোর নির্মাণের পর ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ভাড়া দিয়েছি। আগে কখনো এমন নৃশংসতার ঘটনা ঘটেনি। এলাকাটি শান্তিপ্রিয় বলেই সকলে জানি। এ অবস্থায় নিলুফারকে হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসীও হতভম্ব।