ট্রাম্পের হুমকি: এবার ইরানের পাশে দাঁড়ালো মার্কিন মিত্ররা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুমকি দিয়ে বলেছেন, আজ রাতেই ‘পুরো সভ্যতা মারা যাবে’। তিনি দাবি করেছেন, এই মুহূর্ত বিশ্ব ইতিহাসের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ একটি পর্ব। তবে ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও ইতালি সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, ইরানের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং তা পুরো অঞ্চল ও বিশ্ব অর্থনীতিকে দুষ্টচক্রে টেনে নেবে।

ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি না করে, তাহলে আজ রাতের মধ্যে ‘সমন্বিত ও ব্যাপক বোমা হামলা’ চালানোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ রাতে পুরো একটি সভ্যতা মারা যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না। আমি তা চাই না, তবে সম্ভবত তা ঘটবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘৪৭ বছর ধরে চলা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মৃত্যুর যুগ আজ রাতেই শেষ হবে।’

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহনপথ। গত কয়েক দিন ধরে ইরানের পদক্ষেপের জের ধরে প্রণালীটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় ট্রাম্প মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) মধ্যে প্রণালী খোলার আল্টিমেটাম দেন। ইতোমধ্যে খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার খবরও পাওয়া গেছে।

মিত্রদের কঠোর সতর্কবার্তা
ট্রাম্পের এমন ‘সর্বগ্রাসী’ হুমকির পর ফ্রান্স ও ইতালি সরব হয়েছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা যুদ্ধের নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এসব হামলা ‘নিঃসন্দেহে সংঘাত ও প্রতিশোধের একটি নতুন ধাপের সূচনা করবে, যা পুরো অঞ্চল ও বিশ্ব অর্থনীতিকে ভয়াবহ এক দুষ্টচক্রে টেনে নেবে।’

অন্যদিকে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু হামলার উদাহরণ টেনে সতর্ক করে দিয়েছেন যে এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। করিয়েরে দেলা সেরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই শিখিনি। আমাদের কাছে এখনও পরমাণু অস্ত্র আছে, আর যাদের নেই তারা তা অর্জনের চেষ্টা করছে।’

একইসঙ্গে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে ক্রোজেত্তো তির্যক মন্তব্য করে বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্সির অন্যতম সমস্যা হলো, এখানে কেউ বসকে অমান্য করার সাহস রাখে না।’

জাতিসংঘের হুঁশিয়ারি ও ইরানের অবস্থান
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস স্পষ্ট জানিয়েছেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সব চাপ ও হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তারা শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের পুরোপুরি অবসান চায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য আবারও যুদ্ধের চৌমাথায় দাঁড়িয়ে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের আজ রাতের আল্টিমেটাম বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়।