হরমুজে টোল আরোপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই: আইএমও প্রধান

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনার কোনো আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচল সংস্থা (IMO)-এর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) স্পেনের গণমাধ্যম এল পায়াস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার কোনো আলোচনার বিষয় নয় এবং এটি সংস্থাটির আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্তও নয়। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ একতরফাভাবে টোল বা অতিরিক্ত করিডর আরোপ করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ইরান প্রস্তাব দিতে পারে এবং তার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারে, তবে তা ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে উপস্থাপন করতে হবে-যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।

আইএমও প্রধান সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি তখনই সমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব বুঝতে পারে যখন এটি বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জেনেভাতে আলোচনা চলা অবস্থায় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালায়। দীর্ঘ ৩৯ দিন যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।