‘ট্রাম্প একজন নির্বোধ’

জ্বালানি তেলের দামে ফুঁসছে ক্যালিফোর্নিয়াবাসী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা তেলের চড়া দামে ক্ষুব্ধ হয়ে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের তেলের পাম্পগুলোতে এখন সাধারণ মানুষের হাহাকার আর ক্ষোভের চিত্রই ফুটে উঠছে।

শনিবার (২ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সংবাদ সংস্থা এএফপি।

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী রাইডার থমাস জানান, নিজের পিকআপ ট্রাকের ট্যাংক পূর্ণ করতে এখন তাকে ১৩০ ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে ৩০ ডলার বেশি। ক্ষুব্ধ থমাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধের কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এটি অনেকটা ইরাক যুদ্ধের মতো ভুল সিদ্ধান্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা আগে ছিল সাড়ে ৪ ডলার। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে আসে।

জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং খাদ্য ও পোশাকসহ নিত্যপণ্যের দামকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ৭৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী ফ্লো জানান, পেনশনের যৎসামান্য টাকা দিয়ে ঘরভাড়া দেওয়ার পর এখন গাড়িতে তেল ভরে হাতখরচ চালানো তার জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সমর্থকও এখন ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে সন্দিহান। যদিও ট্রাম্প দাবি করছেন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে এই হামলা জরুরি ছিল, তবে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। সূত্র: এএফপি