নিজের জন্মদিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথকভাবে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনায় উঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আসন্ন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়।
ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার (১৫ জুন) প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান পুতিন। এ সময় দুই নেতা মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্ক, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেন।
উশাকভের দাবি, ট্রাম্প আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সম্ভাব্য রাশিয়া সফর নিয়েও কথা হয়।
ফোনালাপে পুতিন নাকি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি সরাসরি বৈঠক করতে চান, তাহলে তাকে মস্কোতে আসতে হবে। যদিও অতীতে এমন প্রস্তাব একাধিকবার নাকচ করেছেন জেলেনস্কি।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে জেলেনস্কিও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। পরে জেলেনস্কি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এসব বিষয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে দুই নেতা একমত হয়েছেন।
একই দিনে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এই পৃথক যোগাযোগকে ইউক্রেন সংকট ঘিরে ওয়াশিংটনের নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জি-৭ সম্মেলনের আগে এই ফোনালাপগুলো যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য আলোচনার পথ কতটা এগোয়, সেদিকেই এখন নজর কূটনৈতিক মহলের। সূত্র: আলজাজিরা