রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করলেও ট্রাম্প কি উদাসীন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন ও হামলা ঠেকানোর লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাশিয়া যদি ইরানকে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে থাকে, সে বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত সপ্তাহে সিনেটের এক শুনানিতে বলেন, চীন ও রাশিয়া বিভিন্ন উপায়ে ইরানের কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করছে। তবে দুই দিন পর ট্রাম্প এ মূল্যায়নের সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত পোষণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত নয় বলে তার ধারণা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনা প্রেসিডেন্টের আশ্বাসের ওপর তিনি আস্থা রাখেন।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা জানতে পুতিনকে জিজ্ঞাসা করবেন।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, রাশিয়া ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। চলতি বছরের মার্চ থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পরে আরও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশও সরবরাহ করেছে। যদিও ক্রেমলিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সমালোচকদের মতে, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার সন্দেহ প্রকাশ কিংবা গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো রাশিয়ার প্রতি নরম অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। তাদের আশঙ্কা, এতে মস্কো এমন বার্তা পেতে পারে যে, ইরানকে সহায়তা করা হলেও সেটি হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক লাল রেখা নয়।

এ ধরনের বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের হত্যা করতে রাশিয়া পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, এমন গোয়েন্দা তথ্য সামনে এসেছিল। তখনও ট্রাম্প অভিযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন এবং পুতিনের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করেননি বলে জানিয়েছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হোক বা না হোক, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও কূটনৈতিকভাবে কঠোর বার্তা দেওয়া একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল। তবে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া সেই প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েই এখন নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিএনএন