কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক দিন পরও শত শত মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় পরিবারগুলোর মধ্যে যখন উৎকণ্ঠা বাড়ছে, তখন উদ্ধারকারীরাও ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই হারাচ্ছেন।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার কিছু পর ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে। এতে অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, বাড়িঘর, স্কুল ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পর মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে।

সরকারের বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ২৭৩ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৭৭ জনকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি ও কফি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পেরেইরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালি শহরের অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ এখন ধ্বংসস্তূপ সরানোর দিকে যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভূমিকম্পের পর গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।

কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, এখনো নয়টি স্থানে সক্রিয়ভাবে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা শনাক্ত করতে এসব এলাকায় নীরবতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পেরেইরায় এনরিক মারিন নামে এক ব্যক্তি বোগোতা থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালিয়ে সেখানে পৌঁছান। বন্ধুর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছিলেন, তাঁর মা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাঁর মাকে জীবিত অবস্থায় বের করতে পারলেও হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

বড় শহরগুলোর বাইরে পরিস্থিতি আরও কঠিন। কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজ করছেন।

কালি থেকে প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার উত্তরে বুয়েনাভেনতুরার কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা বুধবার রাতের আগে পৌঁছাতে পারেননি বলে স্থানীয় একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ফলে স্থানীয় মানুষদের হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ করতে হয়েছে।

এরই মধ্যে ভূমিকম্পের পর ১৫০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপে কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্যও ঝুঁকি বাড়ছে। সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১২ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

কলম্বিয়ার সদ্য দায়িত্ব নেওয়া সরকারের জন্য এই ভূমিকম্প বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তত কমে আসছে। তারপরও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।