যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আকস্মিকভাবে রাশিয়া সফর করেছেন। তাঁর এই গোপন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিনের শুরুতে র্যাটক্লিফ মস্কোয় পৌঁছান। সেখানে তিনি একটি গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, সিআইএ প্রধান প্রায় আট ঘণ্টা মস্কোয় অবস্থান করেন। তবে সফরের উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা রাশিয়ার রাজধানীতে তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
দুই দেশের মধ্যে বর্তমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল। ফলে র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, একটি মার্কিন সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়ার রাজধানী রিগা হয়ে রাশিয়ায় প্রবেশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি সি-১৭ বিমান অবতরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
ফ্লাইটরেডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে রিগা থেকে উড্ডয়ন করে এবং প্রায় ৭টা ৪ মিনিটে মস্কোয় অবতরণ করে। পরে একই দিন বিকেল ৪টার কিছু আগে বিমানটি মস্কো ছেড়ে যায়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরও কিছু ভিডিওতে মস্কোর রাস্তায় একটি কূটনৈতিক গাড়িবহর চলাচল করতে দেখা গেছে।
সিআইএর পরিচালক হিসেবে র্যাটক্লিফের এটি রাশিয়ায় প্রথম সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর আগে মস্কোর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মস্কোয় ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ফোরম্যান বিবিসি রেডিও ফোরের ‘পিএম’ অনুষ্ঠানে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে র্যাটক্লিফের সফর উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে হয়ে থাকতে পারে।
ফোরম্যানের মতে, বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এত উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে এত অল্প সময়ের নোটিশে এবং কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাশিয়ায় পাঠায় না। তাঁর ধারণা, রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
ইউক্রেনকে সহায়তার অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় রাশিয়ায় বন্দি থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় র্যাটক্লিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তিতেও সিআইএর ভূমিকা ছিল। ওই চুক্তির আওতায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে রাশিয়া সফর করা মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাটক্লিফই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর আকস্মিক সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে।