কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার আরেক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘লেক অন্টারিও’ (Lake Ontario)-এর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ (Lake America) রাখার এক বিতর্কিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
বাণিজ্য বিরোধকে কেন্দ্র করে কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর মার্কিন প্রশাসনের ৫০% শুল্ক আরোপের পর এই ঘটনা ঘটল, যার জবাবে আগামী মাস থেকেই পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
হোয়াইট হাউসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে কানাডার দ্বারা বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের চিন্তাও তার রয়েছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘লেক অন্টারিও’ নামটি চারশত বছরেরও বেশি পুরনো, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্মেরও আগের ইতিহাস বহন করে।
অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কানাডীয় কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সারা বিশ্বের কাছে এই হ্রদের নাম ‘লেক অন্টারিও’ ছিল এবং চিরকাল তাই থাকবে।
আন্তর্জাতিক জলসীমার নাম পরিবর্তনের একক কোনো আইনি অধিকার এক দেশের থাকে না। এর আগে ২০২৫ সালে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম বদলে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার একই ধরনের আদেশ দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা এবং নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে 'বোকা বানানোর মতো কাজ' বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং নাম পরিবর্তন বাতিল করতে কংগ্রেসে বিল আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি