'যুদ্ধ ইউক্রেনের মুসলিম ও খ্রিস্টানের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে'

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ইউক্রেনের মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় মুসলিম ধর্মীয় নেতা মুফতি মুরাত সুলেইমানভ। তাঁর মতে, যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতিতে আন্তধর্মীয় ঐক্যই ইউক্রেনের মুসলিমদের শক্তির অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।

আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের মুসলিমদের ধর্মীয় প্রশাসনের মুফতি সুলেইমানভ বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগেও মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও যৌথ উদ্যোগ ছিল। তবে যুদ্ধ দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্যের মধ্যে, আর এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ যুদ্ধের কারণে মুসলিম ও খ্রিস্টান নেতারা একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সুলেইমানভ জানান, ইউক্রেনের মুসলিমরা প্রতিদিনই এমন আশঙ্কার মধ্যে থাকেন যে পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তাদের মসজিদ, বাড়ি কিংবা বসতিতে আঘাত করতে পারে। তবু যুদ্ধের শুরু থেকেই দেশটির মুসলিম সম্প্রদায় ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

ইউক্রেনে মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও ইসলামি সংগঠনের হিসাবে প্রায় ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ মানুষের কথা বলা হয়। দেশটির মুসলিমদের মধ্যে ক্রিমিয়ান তাতাররা সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী।

মুফতি বলেন, যুদ্ধকে অনেক সময় দুটি প্রধানত খ্রিস্টান দেশের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখা হলেও ইউক্রেনের মুসলিমদের নিরপেক্ষ থাকার প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সম্পর্ক ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ’ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে রাশিয়া প্রচারণা চালাচ্ছে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে—এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে তাঁর মতে, যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা বরং ইউক্রেনের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।

ইউক্রেনে মুসলিম-খ্রিস্টান ঐক্যের এই চিত্র যুদ্ধের বাইরেও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে। ধর্মীয় নেতারা একসঙ্গে শান্তি, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সংহতির পক্ষে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের জাতীয় প্রার্থনা আয়োজনেও বিভিন্ন ধর্মের নেতা, সামরিক চ্যাপলিন ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন।

সুলেইমানভ একই সঙ্গে ইউক্রেন ও গাজার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, যুদ্ধ শুধু ইউক্রেনের ভূখণ্ড ও অবকাঠামোতেই আঘাত করেনি; বরং ধর্মীয় ও সামাজিক সম্পর্কের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে সেই সংকটের মধ্যেই আন্তধর্মীয় সংহতি ইউক্রেনের মানুষের জন্য নতুন ধরনের শক্তি ও আশার জায়গা তৈরি করেছে।

সূত্র: এ নিউজ