ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান পাল্টা হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ও ভয়াবহ হামলা চালাবে এবং এর পর দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ‘খুব সামান্যই অবশিষ্ট থাকবে’।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাকে ‘ন্যায্য’ বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন স্থাপনের চেষ্টা এবং জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন দাবি, ওই আটটি ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাব দেয়, তাহলে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া হবে আরও কঠোর। তাঁর হুঁশিয়ারি, বড় ধরনের আরেকটি হামলা ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে এবং সেটি চালানো হলে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সক্ষমতা, মাইন স্থাপনের অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থাও ছিল বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক তৎপরতার জবাবেই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘কঠোর শাস্তি’ পেতে হবে। ফলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার চুক্তিগত প্রতিশ্রুতি পালন করলে তেহরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। তিনি আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা এক মাসেরও বেশি সময়ের তুলনামূলক সামরিক বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সংঘাতকে সামনে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।