যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইস) এক কর্মকর্তার গুলিতে আহত অভিবাসীকে মুক্তি দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবারের (০৮ অক্টোবর) ওই গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পর রাজ্যজুড়ে আইসিইর অভিযান বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, ঘটনার পর তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলেছেন। আহত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তা সফল হয়নি। নিউইয়র্ক সিটি থেকে আইসিই কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংস্থার সদস্যরা কেবল শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।
মামদানি আইস'র বিরুদ্ধে জবাবদিহি ছাড়াই কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন। তার দাবি, সংস্থাটি যত মানুষকে রক্ষা করেছে, তার চেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবারের গুলির ঘটনা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের আরও একটি ভয়াবহ প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইসকে ভেতর থেকে পচে যাওয়া একটি সংস্থা হিসেবে আখ্যা দেন নিউইয়র্কের মেয়র। তিনি জানান, গুলিতে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে আইসিই কর্মকর্তারা অন্যত্র নিয়ে গেছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি গুলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নিউইয়র্কে আইস'র অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য গুলির সময় ধারণ করা কর্মকর্তাদের দেহে থাকা ক্যামেরার সব ভিডিও জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযানের সময় আইস'র এক কর্মকর্তা গুলি চালান। ওই ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খোঁজে ছিলেন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, আহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে বড় অঙ্কের সম্পদ চুরির অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। হামলা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র রাখার অভিযোগেও তিনি আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া তার সঙ্গে ত্রিনিতারিওস নামের একটি অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকার অভিযোগও তুলেছে কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির বয়স ২৮ বছর। ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা পাঁচ বছর বয়সী একটি শিশুকে তার ছেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টিশ বলেন, আইস'র অন্তত একজন কর্মকর্তা সাতটি গুলি ছুড়েছেন। এর মধ্যে একটি গুলি গাড়িচালকের বাঁ কানের নিচে ঘাড়ে লাগে। শিশুটি আহত হয়নি এবং বর্তমানে পরিবারের এক সদস্যের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার পর আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলা নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতালের বাইরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা আইসিইকে রাস্তাঘাট থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয় এবং কেউ কেউ কর্মকর্তাদের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারেন। পুলিশ ব্যারিকেড বসাতে শুরু করে এবং বিক্ষোভ থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ২০২৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল, তবে কয়েক দিন পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার মুক্তির জন্য নিউইয়র্কের অভিবাসীবান্ধব নীতিকে দায়ী করেছে মন্ত্রণালয়। তবে বৃহস্পতিবারের গুলির ঘটনায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্তাধীন রয়েছে। সূত্র: ফক্স নিউজ