বিগত সময়ের তুলনায় ফ্রান্সের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বা প্রতিনিধিত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। এবার দেশটির পৌর নির্বাচনে তেমন চিত্রই দেখা গেছে। দেশটির সাম্প্রতিক পৌর নির্বাচনে চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
রোববার (২২ মার্চ) দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষে তাদের বিজয় নিশ্চিত হয়।
জয়ীরা হলেন- সাঁ-দেনি থেকে নাহিদুল ইসলাম, স্তা থেকে কৌশিক রাব্বানী খান, ক্রেতেই থেকে ফাহিম মোহাম্মদ এবং ইভ্রি-সুর-সেন থেকে জুবায়েদ আহমেদ।
জানা যায়, সাঁ-দেনি থেকে নির্বাচিত নাহিদুল ইসলাম বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিস’ (এলএফআই) সমর্থিত প্যানেল থেকে জয়ী হয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছেন।
অপরদিকে স্তা শহরে কৌশিক রাব্বানী খান পুনর্নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ক্রেতেই শহর থেকে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্যানেলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত ২৫ বছর বয়সী ফাহিম মোহাম্মদ যেন তরুণ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। শৈশবের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দাবা খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই তরুণ বর্তমানে পেশাগতভাবে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন।
এদিকে ইভ্রি-সুর-সেন শহরে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার জুবায়েদ আহমেদ। তিনি বামঘেঁষা ‘ফ্রন্ট পপুলেয়ার’ জোটের প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন।
এবারের নির্বাচনে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে অন্য কারও বিজয়ের খবর পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন। স্থানীয় পর্যায়ে এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের মতো এখানে সরাসরি ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় না, বরং মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বাধীন একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের পক্ষে ভোট হয়। পরে সেই তালিকা থেকেই কাউন্সিলর নির্বাচন এবং তাদের মধ্য থেকেই মেয়র নির্ধারণ করা হয়।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছেন। যা ২০২০ সালের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশি তরুণদের সাফল্যে প্রবাসীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এবারের পৌর নির্বাচনে বড় শহরগুলোতে বামপন্থিরা তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হলেও কিছু এলাকায় ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর অগ্রগতিও লক্ষ্য করা গেছে। যেটি ফ্রান্সের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।