যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইরানের স্থল অভিযানে যোগ দেবে না ইসরায়েল

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অংশ নেবে না বলে ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন যখন এই সংঘাতে নিজেদের ভূমিকা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তবে তাতে ইসরায়েলি সৈন্যরা অংশ নেবে না। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, এই ধরনের যেকোনো অভিযানের দায়িত্ব ইসরায়েল শুধু মার্কিন সেনাদের ওপরই ছেড়ে দেবে।

এমন খবর আসলো যখন সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা ওয়াশিংটনে নতুন করে সমালোচিত হচ্ছে। পেন্টাগন সীমিত অভিযানসহ বিভিন্ন বিকল্পের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছেন কি না, তা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের মুখে তারা কঠোর জবাব দেবে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা ইরানে প্রবেশ করলে তাদের ভয়াবহ প্রতিশোধের সম্মুখীন হতে হবে। তেহরান প্রতিজ্ঞা করেছে, ওয়াশিংটন সেখানে সেনা মোতায়েন করলে মার্কিন বাহিনীকে ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে’।

সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানে স্থলপথে আক্রমণ ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো বড় কৌশলগত ভুল হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট পেপ বলেন, ভিয়েতনাম স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে কখন আকাশযুদ্ধ স্থলযুদ্ধে রূপ নেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যুদ্ধেও এখন একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর আগামী ১০ দিনই নির্ধারণ করবে এরপর কী ঘটবে।

চ্যানেল টুয়েলভের এই প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও যুদ্ধবিরোধী মহলে। তারা বলছেন, ওয়াশিংটনকে একটি ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ ইরানের অভ্যন্তরে যুদ্ধে নিজেদের সৈন্য পাঠাতে অস্বীকার করছে ইসরায়েল। সমালোচকদের দাবি, মার্কিন সেনাদের এমন এক যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে বলা হচ্ছে, যা ইসরায়েল উসকে দিলেও স্থলভাগে লড়তে তারা রাজি নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর