জার্মানিতে কয়েক শতাধিক ফ্লাইট বাতিল, নেপথ্যে কি?

জার্মানির জাতীয় বিমান সংস্থা লুফথানসা-এর কর্মীদের টানা ধর্মঘটে দেশটির আকাশপথে চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চার দিন ধরে চলমান এই কর্মবিরতির ফলে শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে এবং ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, লুফথানসার ফ্লাইট ক্রুদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) একদিনেই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। টানা চতুর্থ দিনে পৌঁছানো এই কর্মবিরতি পাইলট ও কেবিন ক্রুদের যৌথ অংশগ্রহণে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে লুফথানসা, লুফথানসা কার্গো এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটিলাইনের কার্যক্রমে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের অপারেটর ফ্রাপোর্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত ১ হাজার ৩১৩টি উড্ডয়ন ও অবতরণের মধ্যে ৬৫৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যান সব এয়ারলাইনের জন্য প্রযোজ্য, তবে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বড় অংশই লুফথানসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) লুফথানসা এবং পাইলটদের সংগঠন ‘ফেরাইনিগুং ককপিট’-এর মধ্যে মধ্যস্থতা বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, যা ধর্মঘট পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করেছে। এই ধর্মঘট লুফথানসার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকেও অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে।

লো-কস্ট এয়ারলাইন ইউরোউইংসের ক্ষেত্রে ধর্মঘট কেবল বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত ছিল, তবে লুফথানসা গ্রুপের অন্যান্য এয়ারলাইনের কার্যক্রমের ওপর এর প্রভাব শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কোম্পানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইউরোউইংস বর্তমানে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৭০ শতাংশের বেশি পরিচালনা করছে, যদিও তাদের বহরের একটি অংশ জার্মান ধর্মঘট আইনের আওতায় পড়েছে এবং কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জার্মানিতে নিবন্ধিত কিছু বিমানের ক্ষেত্রে তিন অঙ্কের সংখ্যক পাইলট স্বেচ্ছায় দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছেন, যা আংশিকভাবে হলেও কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি